This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

10 September 2017


13 February 2017

শিক্ষকদের জন্য নতুন ১০টি আইন প্রকাশ করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়!

খসড়া আইনের বিষয়ে মতামত নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মতামত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা, নানা প্রস্তাব বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নতুন করে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দণ্ড ও জরিমানা গুনতে হবে
১. ইংরেজী মাধ্যমসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি সরকারের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারণ করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। ইংরেজী মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান হলেও বাংলা ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয় পড়ানো হবে বাধ্যতামূলক।
২. আইন অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজী মাধ্যম ও এবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৩. মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ইংরেজী মাধ্যম বা বিদেশী কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশী কোন শাখাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন নিতে হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলেও সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
৪. জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করবে। এনসিটিবির অনুমোদন ছাড়া এসব স্তরে শিক্ষাক্রমে অতিরিক্ত কোন বিষয় বা বই অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। কেউ অতিরিক্ত বই অন্তর্ভুক্ত করলে জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালী সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির পরিপন্থী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কার্যক্রম অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্যও জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
৬. সরকার প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই ধারা লঙ্ঘন করলে তিনি অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ছয় মাসের জেল বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৭. শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিষয়ে বলা আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন মানসিক বা শারীরিক শাস্তি দেয়া যাবে না। এটি লঙ্ঘন করলে শিক্ষক অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৮. প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নির্ধারিত পাঠ্যবই না পড়িয়ে বাইরের বই পড়ালে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের জেল বা উভয় দণ্ড রাখা হয়েছে খসড়ায়।
৯. কলেজ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা পাঁচ বছর জেল বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১০. অনুমতি ছাড়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চালালে বা শাখা ক্যাম্পাস, স্ট্যাডি সেন্টার বা টিউটোরিয়াল কেন্দ্র স্থাপন করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

11 February 2017

অসাধারণ বিডিও যা কখনোই দেখা হয়নি।

জিবনের সেরা ফান গেম, যা কখনোই দেখা হয়নি আপনার। 








08 February 2017

হেঁটে চলার অধিকার



মশিউল আলম
প্রতিবছর ২২ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ল্ড কার-ফ্রি ডে বা বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশে এই দিবসটির খবর তেমন প্রচারিত হয় না। এ বছর অবশ্য এক দিন আগেই খবর বেরিয়েছে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) দিবস উদ্‌যাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উপলক্ষে সংগঠনটি ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। প্রেসক্লাবের সামনে একটা মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষদের হাতে ব্যানার-ফেস্টুনে লেখা ছিল: ‘হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করুন’, ‘হাঁটা মানুষের অধিকার’, ‘পথচারীদের অগ্রাধিকার দিন’, ‘হাঁটার উপযুক্ত পথ চাই’ ইত্যাদি। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী কিছু নারী-পুরুষও ছিলেন।
প্রেসক্লাবের ওই আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের খবর সব সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়নি। এ থেকে অনুমান করা যায়, বাংলাদেশে হেঁটে চলাচলকারী নাগরিকদের অধিকার, কিংবা সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমেও বিশেষ গুরুত্ব পায় না। এটা আমাদের সমাজের সাধারণ মানসিকতারই প্রতিফলন। যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণ করা, সময়ে সময়ে সেগুলো মেরামত করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সিগন্যাল ব্যবস্থা কেনা, হাজার হাজার ট্রাফিক পুলিশকে দিন-রাত নিয়োজিত রাখা, যানজটের সমস্যা সমাধানের জন্য নানা রকমের উদ্যোগ নেওয়া—ইত্যাদি তৎপরতা সারা বছর ধরে চলে; যদিও সেগুলো খুব একটা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয় না। কিন্তু সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের অধিকারের মতোই ফুটপাতে হেঁটে চলাচল করার অধিকারও যে নাগরিকদের থাকা উচিত—এ কথা সম্ভবত কেউই ভাবেন না। যদি ভাবতেন, তাহলে নগর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টি ফুটপাতের দিকেও থাকত।
কিন্তু এই মহানগরীর কোনো সড়কের দুই পাশে ফুটপাত আদৌ আছে কি নেই, থাকলেও সেই ফুটপাতগুলো দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারে কি না—এসব দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন কোনো কর্তৃপক্ষ বোধ করে বলে মনে হয় না। কারণ, আমরা দেখে আসছি, ঢাকা মহানগরের অধিকাংশ সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত ভাসমান দোকানপাটের দখলে। সেসব দোকানের ফাঁকফোকর দিয়ে যেটুকু সরু পথ থাকে, সেগুলো দিয়ে স্বচ্ছন্দে হেঁটে চলা যায় না, ঠেলাঠেলি করতে হয়। আর যে অল্প কয়েকটি সড়কের দুই পাশে ফুটপাতে মোটামুটি হাঁটাচলা করা যায়, সেগুলোতে মোটরসাইকেলের উপদ্রব এত বেশি যে খুব সতর্কভাবে পথ না চললে দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মেনে চলা হয় না। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা মনে করেন, তাঁদের দায়িত্ব সড়কের যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা রক্ষা করা, ফুটপাতগুলো যেন তাঁদের দায়িত্বের বাইরে। সেখানে কোনো পদচারীর গায়ের ওপর কেউ মোটরসাইকেল তুলে দিলে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা চেয়ে চেয়ে দেখেন, প্রতিকারের জন্য এগিয়ে আসেন না।
আরও একটা অবাক করা বিষয় হলো, এই মহানগরের বিভিন্ন রাস্তায় ফুটওভার, আন্ডারপাস ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে পদচারীরা নিরাপদে সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারেন। হাঁটাচলার উপযোগী ফুটপাত আছে কি না, সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে পদচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করার উদ্যোগ হাস্যকর। কিন্তু এগুলো নির্মাণের পেছনের একটা কারণ বুঝতে কষ্ট হয় না: এসব স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়, আর যেখানেই জনগণের করের টাকা ব্যয় করার সুযোগ বা অজুহাত মেলে, সেখানেই সংশ্লিষ্ট মহলের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। এই মহানগরে এমন অনেক ফুটওভার নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো নগরবাসী ব্যবহার করেন না। কিন্তু সেগুলো নির্মাণ করার মধ্য দিয়ে কিছু মানুষ পকেট ভারী করার সুযোগ পেয়েছে। ফুটপাতগুলো হাঁটাচলার উপযোগী করার পেছনে তো অন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয় না, তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর কোনো উৎসাহ নেই। বরং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য হলে ওই ব্যবসায়ীদের যেমন রুজিরোজগার হয়, তেমনি প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি ও মহলেরও নিয়মিত হারে অর্থপ্রাপ্তির ব্যবস্থা হয়।
একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে: ঢাকা মহানগরে পদচারী বয়স্ক মানুষ অত্যন্ত বিরল; কারণ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পক্ষে এই শহরের কোনো ফুটপাত ব্যবহার করা আদৌ সম্ভব নয়। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তো আমাদের মোটেই কোনো মাথাব্যথা নেই। নারীদের জন্যও ফুটপাতে চলাচল করা অত্যন্ত ঝামেলাপূর্ণ, বিব্রতকর, কখনো কখনো হয়রানিমূলক। তাই নিতান্তই বাধ্য না হলে কোনো নারী ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে চান না। প্রধানত তৈরি পোশাকশিল্পের নারী কর্মীদেরই ঢাকার ফুটপাতগুলো ব্যবহার করতে দেখা যায়; আর কিছু নারীকে স্বল্প দূরত্বে হেঁটে যাওয়া-আসা করতে দেখা যায়, যাঁরা মানুষের বাসা-বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করেন। শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির নারীদের ঢাকার ফুটপাতে নিয়মিতভাবে হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায় না।
সবকিছু মিলিয়ে আমাদের প্রিয় রাজধানীর ফুটপাতগুলোর যে অবস্থা, তাতে নগরবাসীর হেঁটে চলাচল করার অধিকার ভোগ করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো সভ্য দেশের রাজধানী শহরে এমন অবস্থা কল্পনা করা যায় না। এসব বিবেচনায় নগরবাসীর হেঁটে চলাচল করার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর স্বার্থের বিষয়। আমার ধারণা, এমনকি সচ্ছল, ধনী, অতি ধনাঢ্য পরিবারগুলোর সদস্যরাও এই দাবির বিরুদ্ধে নন। ফুটপাত মানেই পায়ে চলার পথ; সুতরাং যাঁরা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে চান, মহানগরীর ফুটপাতগুলো তাঁদের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে—এটা অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবি। এই দাবিতে গোটা নগরবাসীর সোচ্চার হওয়া উচিত, এ দাবি আদায়ের জন্য ব্যাপক নাগরিক আন্দোলন করে তোলা প্রয়োজন।

চল্লিশের পরে আইনজীবী সনদ নেওয়া যাবে না: সুপ্রিম কোর্




আইনজীবী হিসেবে সনদ নেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করে দিচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এক্ষেত্রে ৪০ বছরের পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আর আইনজীবী হিসেবে সনদ নিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলার রায়ে আদালত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী।
পরে আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী বলেছেন, আদালত বলেছেন ৪০ বছরের পর আইনজীবী হওয়া যাবে না। তাছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছর মেয়াদী এলএলবি সনদদারীরা বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। আর জেলা জজ পর্যায় থেকে যারা অবসর নিয়েছেন তারা হাইকোর্ট বিভাগের নিচে অন্য কোনো আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগ আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবেন। যারা বিচার বিভাগ থেকে অবসর নিয়েছেন তাদের নিম্ন আদালতে আইন পেশায় অনুশীলনের সুযোগ আর থাকবে না। নিম্ন আদালতের বিচারকরা ইচ্ছা করলে শুধু হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। হাইকোর্ট থেকে যারা রিটায়ার করবেন তারা শুধু আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। আর আপিল বিভাগ থেকে যারা রিটায়ার করবেন তাদের প্র্যাকটিসের কোনো সুযোগ নাই।
দুই বছর মেয়াদী কোর্স সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগ বলেছেন দুই বছরের কোর্স তারা এপ্রোভ করবেন না। তিন বছর অথবা চার বছর মেয়াদী কোর্সধারী হতে হবে। আমি বলেছিলাম, আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ৩৫ বছর করতে। তবে এখনো পর্যন্ত আলাপ-আলোচনায় বুঝা গেছে উনারা ৪০ এর পক্ষে।
উল্লেখ্য, বার কাউন্সিলের সনদ গ্রহণের পরীক্ষায় দুই বছরের সনদ নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষিতে হওয়া রিটের রায়ে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই এলএলবি কোর্স সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশও দেন আদালত। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় আপিল করেছিল। আজ বুধবার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল খারিজ করেছেন। এছাড়া এই মামলায় অন্য যেসব বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষভুক্ত হয়েছিল আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।

একজন নোটারি নিম্নলিখিত সকল অথবা যে কোন কাজ করতে পারে

নোটারি পাবলিক

          
নোটারিস অর্ডিনেন্স এবং নোটারিস রুলস , ১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পেশা নিয় ন্ত্রি ত হয় । সাধারণত কোন ব্যক্তি যিনি কমপক্ষে সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন অথবা সরকারের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং এবং সরকারের আইন প্রনয়ণ কা যে নিয়োজিত   ব্যক্তি নোটারি হিসেবে নিয়োগ পাবার যোগ্য ।     
      
নোটারির কাজ:     
           
একজন নোটারি নিম্নলিখিত সকল অথবা যে কোন কাজ করতে পারে -     
    


    কোন দলিলের সত্যতা প্রমাণ করা , সত্যায়িত অথবা প্রত্যয়ন করা ।

    পেমেন্ট অথবা ডিমান্ড এর ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য কোন প্রমিজরি নোট , হুন্ডি অথবা বিল অব এক্সচেঞ্জ উপস্থাপন করা ।

    কোন প্রমিজরি নোট , হুন্ডি অথবা বিল অব এক্সচেঞ্জ গ্রহণে অস্বীকৃতি বা নন- পেমেন্টের মাধ্যমে সৃষ্ট ডিজঅনার এর চিহ্ন দেওয়া বা ঘোষণা করা অথবা নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রূমেন্ট   এ্যাক্ট , ১ ৮৮১ এর অধীনে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ঘোষণা নোটিশ জারি করা ।

    শপথ পরিচালনা করা অথবা কোন ব্যক্তি হতে শপথ পত্র গ্রহণ করা ।

    বটম্‌রি এবং রেসপনডেনটিয়া বন্ড (bottomry and respondantia bonds), চার্টার পার্টি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রস্তুত করা ।

    বাংলাদেশের বাইরে কোন দেশ অথবা জায়গায় কার্যকর কোন দলিল সেখানকার আইনের সাথে মিল রেখে একই আকারে এবং ভাষায় প্রস্তুত করা , সত্যতা প্রমাণ করা ।

    কোন দলিল এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করা এবং অনুবাদের সত্যতা প্রমাণ করা ।

    নির্ধারিত অন্য যে কোন কাজ করা ।
    
    
নিয়োগ প্রক্রিয়া:     
নির্ধারিত ফরমে (আবেদন) প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যাদি প্রদান করে একটি আবেদন করা হয় এবং উক্ত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ম্যাজিষ্ট্রেট , ব্যাংকার , ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিসহ কমপক্ষে দশজন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত হতে হবে । উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ গৃহীত প্রত্যেকটি আবেদন পরীক্ষা করবে এবং বিষয়টির উপর তদ ন্ত করবে ।     
      
নিযুক্তির জন্য সুপারিশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করবে , যথা-     
(K)
    আবেদনকারী উক্ত এলাকায় বসবাস করে কিনা;
(L)
    উক্ত এলাকার কোন বাণিজ্যিক গুরুত্ব আছে কিনা;
(M)
    আবেদনকারীর বাণিজ্যিক আইন স ম্প র্কে উপযুক্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে কিনা ;
(N)
    একাধিক নোটারি সমন্বয়ে আবেদনকারীর কোন আইনজীবী ফার্ম আছে কিনা ;
(O)
    আবেদনকারী উক্ত এলাকার অন্যান্য আবেদনকারী অপেক্ষা অধিক উপযুক্ত কিনা ।
    
    
উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নোটারি হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে সচিব বরাবর সুপারিশমালা প্রেরণ করার পর নোটারী সার্টিফিকেট ফি ট্রেজারীতে জমা প্রদান সাপেক্ষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক নোটারী পাবলিক নিয়োগ করে থাকে এবং প্রতি তিন ব ৎ সর    অ ন্ত র অ ন্ত র নবায়ন ফি জমা প্রদান সাপেক্ষে নোটারি সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয় । আইনের অধীনে সরকার কর্তৃক পরিচালিত নোটারি রেজি স্ট্রা রে তাঁর নাম লিপিবদ্ধ করা হয় । প্রত্যেক নোটারি প্রতি বছর জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিগত বছরে তাঁর দ্বারা কৃত কাজের একটি রিটার্ণ দাখিল করবে ।     
      
যোগাযোগঃ     
সহকারী সচিব
১১ তলা, কেন্দ্রীয় পরিবহন পুল ভবন
সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকা।
ফোনঃ +০৮৮-০২-৯৫৬৬০১০
এই কনটেন্ট হতে নোটারি পাবলিক কি, নোটারির কাজ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ইত্যাদি তথ্য জানা যাবে।

07 February 2017

নোটারি কী ও কেন। নোটারি করার সাইনবোর্ড কার্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও ঝোলানো যাবে না।

সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে ছবি সত্যায়িত করার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় আছে আপনার? নোটারিও সত্যায়িত করার ব্যাপার, তবে ছবি নয়, আপনার বিভিন্ন দলিল বা ডকুমেন্ট সরকারিভাবে সত্যায়িত করাকেই নোটারি বা নোটারি পাবলিক বলা হয়।

নোটারি পাবলিককে সংক্ষেপে নোটারি বলা হয়ে থাকে। নোটারি শব্দের মূল নামপদ ‘note’ এবং ‘ary’ অনুসর্গ নিয়ে গঠিত। শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষার nota+arius থেকে, এর অর্থ শর্টহ্যান্ড লেখক, কেরানি ইত্যাদি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নোটারির প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশের আইন অঙ্গনেও নোটারি পাবলিক এক অতি পরিচিত নাম‌‌‌। কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা ডকুমেন্টকে সত্যায়িত করতে গেলেই নোটারি পাবলিকের প্রয়োজন পড়ে। আমাদের দেশে সাধারণত নোটারি পাবলিকের কাজ অনুমোদিত আইনজীবীরাই করে থাকেন। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয় নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা।

নোটারি কেন করা হয়

গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে হলে সাধারণত নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সত্যায়িত করা বাধ্যতামূলক। জমিজমা সংক্রান্ত দলিল-দস্তাবেজ, হলফনামা, বিবাহবিচ্ছেদ, গাড়ি বেচাকেনা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, চারিত্রিক সনদপত্র, জন্ম-মৃত্যুর সনদপত্র এবং বিদেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত করা বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া পেমেন্ট অথবা ডিমান্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে, বটম্‌রি এবং রেসপনডেনটিয়া বন্ড (bottomry and respondantia bonds ), চার্টার পার্টি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলপত্র তৈরিতে নোটারির ব্যবহার রয়েছে। 
কীভাবে করতে হয়

নোটারি পাবলিক করতে গেলে আইনজীবী আপনার মূল কাগজপত্র যাচাই করে দেখবেন। এরপর তিনি নিশ্চিত হলে তা সত্যায়িত করবেন। মূল কাগজপত্র বলতে বোঝানো হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্ম ও মৃত্যুর সনদ, চারিত্রিক সনদ ইত্যাদি। আর আপনি যদি বিয়ে, তালাক কিংবা হলফনামা তৈরি করতে চান তাহলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আপনার নোটারি করতে হবে। নোটারি বিধিমালা (৬০ক) অনুযায়ী, একজন নোটারিয়ান বা যিনি নোটারি করে দেন তাঁর নির্দিষ্ট কার্যালয় থাকতে হবে। আর নোটারি করার সাইনবোর্ড কার্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও ঝোলানো যাবে না।
নোটারি করতে খরচ

নোটারি পাবলিক করতে কত খরচ হয়? অনেকে মনে করেন, নোটারি পাবলিকের জন্য হাজার খানেক টাকা লাগে। এটি ভুল। এমন ভুল ধারণা ছড়ানোর অবশ্য কারণও রয়েছে। এক শ্রেণীর দালাল নোটারি পাবলিকের ব্যবসা খুলে সাধারণের কাছ থেকে হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু এ কাজের জন্য সরকারের নির্ধারিত ফি রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি সত্যায়নের কাজে ১০ টাকা, আর যেকোনো স্ট্যাম্পে হলফনামা, চুক্তিপত্রের ক্ষেত্রে ২০-২৫ টাকা খরচ হয়। অথচ অনেক নোটারি পাবলিক প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন।

প্রতারণা থেকে সাবধান 

নিয়মানুযায়ী কাগজপত্র নোটারি করার সময় আপনার নিজের আইনজীবীর সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। অনেক সময় প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে নোটারির কাজ সম্পাদন ও ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে নোটারি করা হয়। নোটারির কাজ হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনেক অবৈধ নোটারি পাবলিক নিজেরাই সিলমোহর বানিয়ে প্রতারিত করে থাকেন। কাজেই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া মারা গেছেন এমন নোটারি পাবলিকের সিলমোহর ব্যবহার করেও অনেকে প্রতারিত করতে পারেন। বয়সের মিথ্যা তথ্য দেওয়া সনদ, বিবাহবিচ্ছেদ ও মামলার কাজে মিথ্যা হলফনামা, পেছনের তারিখে দলিল তৈরি, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত বানিয়ে আমমোক্তারনামা বানানো, মিথ্যা চুক্তিপত্র, ভুয়া আপসনামাসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা সনদ এবং দলিল সম্পাদনার কাজ করছেন এক শ্রেণীর অবৈধ নোটারি পাবলিক। ভুয়া নোটারিরা অনেক ক্ষেত্রে সাদা কাগজে নোটারির কাজ সম্পন্ন করে অপরাধী চক্রকে বিভিন্নভাবে অপরাধ করতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতএব নোটারি করার আগে নোটারি পাবলিক সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন।

কারা নোটারি করতে পারবেন 

নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পাবলিকের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত কোনো ব্যক্তি, যিনি কমপক্ষে সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন অথবা সরকারের আইনি খসড়া এবং সরকারের আইন প্রণয়নকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য। 

06 February 2017

ট্যাক্স রিবেট / রেয়াত কি? ইহার সুবিধা কি ও কিভাবে তা নির্ধারণ করা হয়?

সরকার করদাতাদের কিছু কিছু বিনিয়োগ এবং দানে উৎসাহিত  করার জন্য ঐ সমস্ত বিনিয়োগ এবং দানের উপর ১৫% কর রেয়াত / কর ছাড় দিয়ে থাকে, আর এই বিনিয়োগ / দানের  পরিমান ১,৫০,০০,০০ অথবা মোট করযোগ্য আয়ের ৩০% (provident funad a নিয়োগকরতার দান ব্যতিত)  এই দুএর মধ্যে যেটি ছোট তার চেয়ে বেশি নয়। এই রেয়াত তার মোট প্রদেয় আয়কর হতে বাদ যাবে।
 উধারন হিসাবে বলা যায়, ২০১৫-১৬ আয় বর্ষে একজন ব্যক্তি যদি মাসিক ৫০,০০০ টাকা বেতন এবং ২ ঈদ মিলে যদি ১ মাসের বেতনের সমপরিমাণ বোনাস পায় তবে তার বাৎসরিক করযোগ্য আয় হয় (সম্ভাব্য) ৪২২,০০০  এবং তার উপর প্রদেও আয়কর হয় ১৭,২০০ টাকা । এখন, ওই ব্যক্তি যদি ওই বৎসর এ সরবচ্চ বিনিয়োগ/ দান (সম্ভাব্য ১,২৬,৬০০ টাকা) করে থাকে তাহলে সে এর উপর সরবচ্চ রেয়াত সুবিধা নিতে পারে । এ ক্ষেত্রে শুধু রেয়াতের পরিমানই হয় ১৮,৯৯০। অর্থাৎ তার নেট প্রদেও আয়কর হয় ১৭,২০০ – ১৮,৯৯০ = (১,৭৯০)টাকা কিন্তু সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কারো করযোগ্য আয় নিরপিত হলে তাকে কমপক্ষে  ৫,০০০/৪,০০০/৩,০০০ টাকা কর দিতে হবে ।
 বিনিয়োগয়ের উপর আয়কর রেয়াত এর পরিমাণ নির্ণয় করার নিয়ম হলঃ
১,৫০,০০,০০০ অথবা মোট করযোগ্য আয়ের ৩০% (provident funad a নিয়োগকরতার দান ব্যতিত) অথবা প্রকৃত বিনিয়োগ এই তিনটার মধ্যে যেটি ছোট তার উপর ১৫% এর সমপরিমাণ।

04 February 2017

কোর্ট ম্যারেজ থেকে সাবধান

কোর্ট ম্যারেজ
অনেক উঠতি বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকা পরিবারের অমতে কোর্টে গিয়ে কিছু কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ভাবেন আইনগতভাবে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা এখন স্বামী-স্ত্রী এবং একসাথে বসবাস করতে পারবে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি – কোর্ট ম্যারেজ বলে কোন কিছু আইনে নেই। যুবক-যুবতি বা নারী-পুরুষ স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একত্রে বসবাস করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে হলফনামা সম্পাদন করে থাকে, তাই কোর্ট ম্যারেজ নামে পরিচিত। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এই রুপ কোন বিয়ে যদি কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রী না করা হয় তাহলে আইনগত কোন ভিত্তি থাকবেনা। কোন এক সময় যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ত্যাগ করে তাহলে আইনগত কোন প্রতিকার পাবেনা।
পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে কিংবা একশত পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয়ে গিয়ে হলফনামা করাকে বিয়ে বলে অভিহিত করা হয়। অথচ এফিডেভিট বা হলফনামা শুধুই একটি ঘোষণাপত্র। আইনানুযায়ী কাবিন রেজিষ্ট্রী ও আকদ সম্পন্ন করেই কেবল ঘোষণার জন্য এফিডেভিট করা যাবে।
আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক তরুণ তরুণীর ভুল ধারণা হয় যে, শুধুমাত্র এফিডেভিট করে বিয়ে করলে বন্ধন শক্ত হয়। কাজী অফিসে বিয়ের জন্য বিরাট অঙ্কের ফিস দিতে হয় বলে কোর্ট ম্যারেজকে অধিকতর ভাল মনে করে তারা।
যদি কাবিন রেজিষ্ট্রী করা না হয় তাহলে স্ত্রী মোহরানা আদায় করতে ব্যার্থ হবে। অধিকিন্তু আইন অনুযায়ী তার বিয়ে প্রমান করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। তাই এই ক্ষেত্রে সঙ্গী কর্তৃক প্রতারিত হবার সম্ভাবানাই অধিক।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী যে ক্ষেত্রে একজন নিকাহ রেজিস্টার ব্যাতিত অন্য ব্যাক্তি দ্বারা বিবাহ অনুষ্টিত হয় সে ক্ষেত্রে বর বিবাহ অনুষ্টানের তারিখ থেকে পরবর্তী (৩০) ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্টারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
ধারা ৫(৪) অনুযায়ী অত্র আইনের বিধান লঙ্গন করলে দুই বছর পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

04 January 2017

রিটার্ন কী এবং কারা দেবেন?



আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর আইন অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। বর্তমান অর্থবছর থেকে কোনো ব্যক্তি করদাতার আয় যদি বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে তাঁকে রিটার্ন দিতে হবে। নারী এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতার আয় যদি বছরে ৩ লাখ টাকার বেশি,lপ্রতিবন্ধী করদাতার আয় যদি বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তাহলে তাঁকে রিটার্ন দিতে হবে। তবে আয়ের পরিমাণ যা-ই হোক
না কেন, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক—
১. আয় বর্ষে করযোগ্য আয় থাকলে; 
২. আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের যেকোনো বছর করযোগ্য আয় নিরূপিত হলে;
 ৩. সিটি করপোরেশন অথবা বিভাগীয় ও জেলা শহরের পৌরসভায় বসবাসকারীদের: ক. একটি গাড়ির মালিক হলে; খ. মূল্য সংযোজন কর আইনে নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্য হলে;

৪. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে; ৫. চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার অথবা সমজাতীয় পেশায় নিয়োজিত সব ব্যক্তি; ৬. চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অথবা কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সব সদস্য; ৭. পৌরসভা, সিটি করপোরেশন অথবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব পদপ্রার্থী; ৮. সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঠিকাদারি কাজে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

কীভাবে এবং কোথায় জমা দেবেন
দেশের সব অঞ্চলের আয়কর অফিসগুলোতে আয়কর রিটার্ন ফরম পাওয়া যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.nbr.gov.bd) থেকেও রিটার্ন ফরম নামিয়ে নেওয়া যায়। এ রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আপনি একজন আয়কর আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারেন। এ রিটার্ন দাখিলের সময় কোম্পানি ছাড়া অন্য প্রায় সব শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর এই তিন মাস সময়সীমার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব না হলে একজন করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে দুই মাস পর্যন্ত সময় চেয়ে নিতে পারেন। প্রতি শ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলের জন্য আয়কর সার্কেল নির্দিষ্ট করা আছে। এ সার্কেল সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে যাঁর যাঁর অধিক্ষেত্র অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর আপনার ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কত আয়কর নির্ধারিত হলো, এটির একটি স্লিপ নিয়ে চেক, পে-অর্ডার অথবা চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বর্তমানে রিটার্ন দাখিলের জন্য তিনটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। একটি হচ্ছে সাধারণ পদ্ধতির আওতায়। এ ক্ষেত্রে রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের সমর্থনে তথ্য-প্রমাণাদি না থাকলে করদাতার শুনানি গ্রহণ করে নিষ্পত্তি হবে। আরেকটি হচ্ছে স্বনির্ধারণী পদ্ধতি এবং তৃতীয়টি হচ্ছে সর্বজনীন নির্ধারণী পদ্ধতি। এতে করদাতা তাঁর নিজের আয় নিজে গণনা করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করতে হবে। আপনার আয়কর কত হবে, আইনজীবীর সহায়তায় কিংবা অভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে বের করে নিতে পারেন। আপনার বার্ষিক আয়ের ওপর আনুপাতিক হারে আয়কর নির্ধারিত হবে। বর্তমানে ঢাকার সেগুনবাগিচায় আয়কর বিভাগের উদ্যোগে একটি বিনা মূল্যে কাউন্সেলিং কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে গিয়েও আপনি আয়কর সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।